মঙ্গলবার । ৩০শে জুন, ২০২৬ । ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩

ডাচদের বিদায়ে কোচের দায় দেখছেন ইব্রাহিমোভিচ

ক্রীড়া প্রতি‌বেদক

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশার ছাপ। একটু আগেও যারা কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল, তারা তখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মরক্কোর বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে লিড হারানো, এরপর টাইব্রেকারে পরাজয়, সব মিলিয়ে ডাচদের জন্য ছিল এক বেদনাদায়ক রাত।

তবে পরাজয়ের পর সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা এসেছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের কাছ থেকে। সুইডিশ কিংবদন্তির মতে, নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের দায় সবচেয়ে বেশি কোচ রোনাল্ড কুমানের।

মরক্কোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে কুমান নিজের পরিচিত কৌশল থেকে সরে এসে পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কোডি গাকপো গোল করে দলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন। সেই লিড ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করার পথে ছিল ডাচরা। কিন্তু যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল করে মরক্কো ম্যাচটিকে নিয়ে যায় টাইব্রেকারে। সেখানেই ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসে বিশ্লেষকের ভূমিকায় থাকা ইব্রাহিমোভিচ কোনো রাখঢাক না রেখেই সমালোচনা করেন কুমানের সিদ্ধান্তের, ‘এই পরাজয়ের দায় কুমানের, কারণ এই ডাচ দলকে আমি চিনতে পারিনি। তিনি এমন এক কৌশলে খেলে হেরেছেন, যা ডাচদের ধরন নয়। এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে।’

ইব্রাহিমোভিচের মতে, নেদারল্যান্ডসের ফুটবল পরিচয়ই হলো আক্রমণাত্মক খেলা। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে সেই স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছিল দলটি, ‘আমাকে সবসময় শেখানো হয়েছে—আক্রমণ করো, আক্রমণ করো, আক্রমণ করো। কিন্তু তারা যা করেছে, সেটা ডাচদের পরিচয় নয়। আজ কুমানকে একজন ইতালিয়ান কোচের মতো লাগছিল, যিনি হার এড়ানোর জন্য খেলছিলেন। অথচ নেদারল্যান্ডস সবসময় জেতার জন্যই খেলে। যদি হারতেই হয়, অন্তত নিজের পরিচয় নিয়েই হারো। সেটাকে বদলে ফেলো না।’

সুইডেনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার চোখে এদিনের নেদারল্যান্ডস ছিল একেবারেই অচেনা, ‘এটা সেই নেদারল্যান্ডস ছিল না, যা দেখে আমি অভ্যস্ত। তাদের খেলার ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, তারা স্বস্তিতে নেই। বলের দখল ছিল না, আক্রমণাত্মক ফুটবলও খেলেনি। ম্যাচটা দেখতে খুবই বাজে লাগছিল। এর পুরো দায় কুমানের। আমার মোটেও ভালো লাগেনি, একদমই না।’

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন